শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার পূর্ব কেদারপুর গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় এক পরিবারের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে লুটপাট ও নারী ও শিশুর ওপর হিংস্র আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার বেলা আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ কামাল শেখের চারটি হাঁসের বাচ্চা মারাকে কেন্দ্র করে ইমরান শেখ, হুমায়ুন শেখ, মান্নান শেখ ও সোহাগ বেপারীসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক রানদা সেন, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে কামাল শেখের বাড়িতে অবৈধভাবে হামলা চালায়। তারা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ওপর হিংস্র আক্রমণ চালায়।
হামলার সময় কামাল শেখের পুত্রবধূ রহিমা আক্তার বাধা দিতে এগিয়ে এলে ইমরান শেখ, মান্নান শেখ ও হুমায়ুন শেখসহ হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এ সময় রহিমার পরনের শাড়ি ও ব্লাউজ টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়। রহিমার কোলে থাকা শিশু সন্তান সায়েমকেও তারা কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এ ঘটনায় রহিমা ও তার শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন।
পরিবারের আরেক সদস্য স্বর্ণা আক্তার ঘটনাস্থলে বাধা দিতে এলে তাকেও হামলাকারীরা পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা রহিমা ও স্বর্ণার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীরা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আসলাম উদ্দিন মোল্লা ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
এই হামলার ঘটনায় আহতরা নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের পরিবারের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে।
(সংবাদটি স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।)
সোহাগ
নড়িয়া শরীয়তপুর






