শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে সৌদি আরব থেকে প্রাপ্ত দুম্বার মাংস বিতরণকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন। জেলা ত্রাণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮০ কাটন মাংস এসেছে, প্রতিটি কাটনের ৮টি প্যাকেট প্রতি প্যাকেটে ছিল ৩ কেজি করে হিমায়িত মাংস। জনসংখ্যার অনুপাতে এসব মাংস উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিতরণের কথা জানায় প্রশাসন।
এদিকে সরেজমিনে এক কাটনে ৮ প্যাকেটের জায়গায় ৭প্যাকেট দুম্বার মাংশ পেয়েছে বলেও দেখা যায়। বুধবার সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) নাজনীন শামীমা এবং সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাফিস এলাহী।
তবে এ বিতরণ কার্যক্রমের মাঝেই ওঠে অনিয়মের অভিযোগ। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়,-৩ কাটন দুম্বার মাংস সার্কিট হাউজে নিয়ে যাওয়া হয় অফিসারদের জন্য।
আরও ৩ কাটন রাখা হয় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসে, যা পরবর্তীতে ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা বেল্লাল মোল্লা বলেন, ত্রাণ অফিসে মাংস আছে শুনে গেলে, আমাকে বলা হয় সব বিতরণ শেষ। কিন্তু দুপুর আড়াইটায় আমি দেখেছি ত্রাণ অফিসের পিয়ন বস্তায় করে মাংস নিয়ে যাচ্ছে। ছবি তুলেও রেখেছি।
এদিকে জেলার ৫টি উপজেলা ও সদর উপজেলার মোট ৩৪টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পুরনো তালিকা অনুযায়ী মাংস দেওয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রকৃত এতিমখানা নয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে আবাসন দেয়, অথচ সরকারি সহায়তা নিতে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে ‘এতিমখানা’ বা ‘লিল্লাহ বোর্ডিং’ হিসেবে। ফলে প্রকৃত এতিম ও অসহায় শিশুরা এসব মাংস পায়নি।
ডিআরআরও নাজনীন শামীমা বলেন, উপজেলা পর্যায়ে তালিকা অনুযায়ী মাংস পাঠানো হয়েছে। সার্কিট হাউজ বা ত্রাণ অফিসে মাংস রাখা হয়েছে কিনা, তা আমি জানি না। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে থাকলে তা দেখা যেতে পারে।






