নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের গোলারবাজারের উত্তর প্রান্তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজের সময় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায়, ফজরের নামাজ পড়তে গোলারবাজারের মসজিদে আসার সময় দূর থেকে আগুনের আলো দেখা যায়। কাছাকাছি গিয়ে তারা দেখেন, একসঙ্গে থাকা চারটি দোকান দাউদাউ করে জ্বলছে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তবে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দোকানগুলো পুড়ে শেষ হওয়ার পর্যায়ে ছিল। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে ।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলির মালিকরা হলেন:
শম্ভু (৪০): বানিয়াতির দোকান
আব্দুল খালেক হাওলাদার (৫৫) টেইলারিং দোকান
রাকিব শেখ (২৫) হোটেল
সুভল শীল (৪০)সেলুন
তাদের মতে, দোকানের মালামাল, নগদ টাকা ও সরঞ্জাম মিলে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দোকান মালিক রাকিব শেখ বলেন, সবকিছু শেষ হয়ে গেল সরকারি সাহায্য ছাড়া আর উপায় নেই।
নড়িয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার জানান, গোলারবাজারের কাঁচা দোকানগুলিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো স্থাপনা পুড়ে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও অজানা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছরে এ উপজেলায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। যেমন, ২০২১ সালের নভেম্বরে নড়িয়ার ঘড়িসার বাজারে ১৫টি দোকান পুড়ে গিয়েছিল ।
স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এই ঘটনার কারণ হতে পারে । তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, জ্বালানি বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণও ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে ।
এই অগ্নিকাণ্ড নড়িয়ার ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে গভীরভাবে আঘাত করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তা ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোহাগ নড়িয়া শরীয়তপুর





